বাড়ির পাশেতে হাসনাহেনার গাছে আজ নেই ফুল,
সুরমা নদীর জলের ঢেউয়ে ভাসছেনা আজ কূল।
দূরবনে ঐ শিয়ালের দল একসাথে সব চুপ,
তরতাজা ফুল সুর্যমুখীও হারিয়েছে তার রুপ।
ঘরের উঠোনে বেলীগাছ তার ঝরাচ্ছে সব ফুল,
আজকে বাড়িতে কাঁদছে সবাই হারিয়ে সবার মূল।
বাড়ির কর্তা হঠাৎ অসুখে হাসপাতালের মাঝে,
সেই যে শুয়েছে, হয়নিতো উঠা আর তো পুরনো সাজে।
সবার অচেনা কোন সে অসুখে ধরেছিল তারে খুব,
সেই অসুখেই দিতে হল তাকে মৃত্যু-সাগরে ডুব।
সেই শনিবারে গিয়েছিল হাটে, হয়নিতো ফেরা আর,
আজকে যখন এসেছে বাড়িতে প্রাণ নেই সাথে তার।
কত ভালো লোক, হাসিমাখা মুখে চাইতো সবার ভালো,
আজ তার শোকে কাঁদছে সবাই, নেই কারো মুখে আলো।
কর্তার শোকে কাঁদছে সবাই, ঘরের বিড়ালটিও,
অব্যক্ত সুরে বলছে খোদায়, তুমি তার খোঁজ নিও।
আথালে গাভীন গাই গরুটিও কাঁদছে মনিব শোকে,
বলছে প্রভুকে, মনিবের থেকে কষ্টকে দিও রুখে।
রহমান সাবে খুব ভালো লোক, বলছে গাঁয়ের সবে,
বেরুলে কোথাও, সবার খবর নিয়েই যেতেন তবে।
সবার বিপদে রহমান ভাই আছেন সবার আগে;
প্রয়োজনে দেখো অন্যের কাজে নির্ঘুম রাত জাগে।
এমনো হয়েছে, কেউ এসে তাকে বলে রহমান ভাই,
আজকে আমার ঘরেতে খাবার কিছুই যে আর নাই;
ওদিকে আবার তার পকেটেও নেই কোন টাকা আজ,
রহমান থেকে খালি হাতে যাবে এমন কি হয় কাজ!
অন্যের থেকে নিজে ধার এনে অভাবীকে দিলে পরে,
রহমান সাবে তৃপ্তি পেতেন তার নিজ অন্তরে।
পরের কাজেতে ঘরের বাইরে থেকেছেন কতকাল,
পরের জন্য নিজ কাঁধে কত নিয়েছেন জঞ্জাল।
সেই রহমান সাবে আজ নেই, শুয়েছেন চিরঘুমে,
সাহায্য চেয়ে আর কখনোই আসবেনা লোকে, রুমে।
তার শোকে আজ বাড়ির আকাশ হয়েছে গুমোট কালো,
সেই শোকে আজই কাঁদছে সবাই, নেই কারো মন ভালো।
প্রার্থনা শুধু করি আজ সবে, আমাদের রহমান-
খোদার কাছেতে স্থান পায় যেন হয়ে তার মেহমান।
জগতের প্রভু, ওগো দয়াময়, তোমার দয়ার বলে-
রহমান সাবে পায় যেন সুখ আরশের ছায়াতলে।
পিনিক জোন,
২২-০১-২০১৭
Post a Comment